কবুতরই ভরসা এখন
কয়েক মাস ধরে দেশ থেকে কোন চিঠি পাই না। একটা পার্সেল পাবার কথা সেটাও আর আসে না। অস্ট্রেলিয়া পোস্টে খোঁজ করে জানা গেল বাংলাদেশ থেকে কোন কিছু আসছে না, যাচ্ছেও না। কারণ কী? বকেয়া বাকী। প্রথমে শুনলাম দ্বিপাক্ষিক লেনদেন, গতপরশু পত্রিকা দেখে জানলাম সিংগাপুর এয়ারলাইনসও আছে এ প্যাঁচের মধ্যে। ওদের কাছে ডাক বিভাগের দেনার পরিমাণ প্রায় ১৫ কোটি টাকা। দিচ্ছি দেব করেও ডাক বিভাগ সেটা দেয়নি, তাই বাধ্য হয়ে তারা ডাক পরিবহন বন্ধ করে দিয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডাক মহাপরিচালক বলে, তারা বাজেট চেয়ে পায়নি, মন্ত্রণালয় সময়মতো এটা করেনি সেটা করেনি- আজ কালের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে। বেটাকে চাবকানো দরকার।
গত ফেব্রুয়ারি পর দেশ থেকে নতুন নাটকের সিডি/ডিভিডি বলতে কিছু আর আসছে না। দোকানে জিজ্ঞেস করে জানলাম, ডাক বিভাগ পার্সেলের হার বাড়িয়ে দিয়েছে তাই আর পোষাচ্ছে না। আগে এক কেজি জিনিস পাঠাতে লাগত ৩০০ টাকার মতো, সেটা এক লাফে ১২০০ টাকাতে গিয়েছে।
একটা বিষয় আমার মাথায় ঢুকে না। সবাই চিঠি পাঠায় খাম আর টিকিট কিনে। বাকীতে কেউ চিঠি পোস্ট করে এমন খবর জীবনে শুনিনি। তাই যদি হয়, তবে ডাক বিভাগের টাকা বাকী পড়ে যায় কেমনে করে?
ডাক সরাবরাহ বন্ধ থাকলেও ডাক বিভাগ কাউকে সেটা বলছে না; স্বাভাবিকভাবেই চিঠি, পার্সেল গ্রহণ করছে। কিন্তু কবে যে সেটা পৌঁছবে, বা আদৌ পৌঁছবে কিনা কেউ জানে না।
অনেকে হাসছেন এ নেটের যুগে কেউ চিঠি লেখে? সেখানেও সমস্যা। তদারকি সরকার আসার আগে ১০ ডলারের একটা কলিং কার্ড দিয়ে ২০০ মিনিট কথা বলা যেত। একটা কার্ড ভাল না লাগলে আরেকটা। কিন্তু ভিওআইপি ধরপাকড় করার পর এখন দেশে ফোন করার খুব করুণ অবস্থা। কল যায় না, এ কল সর্বনিম্ন ক্রেডিটকে অতিক্রম করবে ইত্যাদি নানা হ্যাপা। ২০০ মিনিটের জায়গায় এখন ১০০ মিনিটও কথা বলা যায় না। সরাসরি ফোন করলে আধঘণ্টায় ১০ ডলার বিল হয়ে যায়।
আগের মতো ফোন করি না, এ অভিযোগে বাবা-মার মন খারাপ। কীভাবে বুঝাই এ সংকটের কথা? উনারা উল্টো ফোন করলেও মন সায় দেয় না ওদিককার খরচের কথা ভেবে।
শেষমেষ কি তবে পায়রা পুষতে হবে?