বালামের বেইল শেষ
লেখার আগে স্বীকারোক্তি। দেশে থাকতে মানবজমিন খুব একটা ভাল লাগত না। তবে যখন জেসমিনের একটা ছবি তারা ছেপে দিল, তারপর থেকে...। প্রবাসে প্রতিদিন সকালে উঠে প্রথমে প্রথম আলোর শিরোনাম দেখি, তার পরই মানবজমিনের বিনোদন পাতা। তার বাদে, ইনকিলাবের বিনোদন পাতা (আওয়ামীকরণের পর ইনকিলাবের যথেষ্ট উন্নতি দেখেছি)। মানবজমিন বিনোদন ছাড়াও সাম্প্রতিক কালে বেশ কিছু অসাধারণ আগাম খবর দিয়েছে; অন্যান্য পত্রিকাগুলো সেসব সম্পর্কে কোন ধারণাই দিতে পারেনি।
আজকের মানবজমিনের বিনোদন খবর হচ্ছে বালাম বেকার হয়ে গেছে। হাবিব-ফুয়াদের পর যে নামটি গত দুবছর খুব শোনা গেছে সেটা হলো বালাম। অনেক টাকা পয়সাও নাকি কামিয়েছে; এ রকম সুপারস্টার হঠাৎ করে কর্মহীন হওয়ার কারণ কী? একটা কারণ হচ্ছে বোনকে নিয়ে করা ফিচারিং জুলি তেমন একটা সুবিধা করতে পারেনি। তার উপর বালাম যার লেখা গান দিয়ে প্রথম সলো করে খ্যাতি পেয়েছিল; সেই গীতিকার ওস্তাদ বদল করে বাপ্পার সাগরেদ হয়েছেন। হেতু হিসাবে যা জানা গেছে- উনি নাকি বালামের কাছে অ্যাকুস্টিক গিটার শিখতে চেয়েছিলেন, বালামের সময় হয়নি।
বালাম অবশ্য খুব একটা স্বীকার করেনি যে তার হাতে কাজ নেই। বাংলাদেশে শিল্পী-মডেলরা বেকার হলে, ভালো স্ক্রিপ্ট পাচ্ছি না, বেছে বেছে কাজ করছি, নিজেকে একটু গুছিয়ে নিচ্ছি- এরকম কথা বলে থাকে। সে সূত্রে ফেললে বালাম মনে হয় প্রকৃতই বেকার হয়ে পড়েছে।
বালামের গান আমার কখনই পছন্দ হয়নি। তার কোন গানকেই আমি ভাল লাগাতে পারিনি। কারণ, নামে যত চমক, তার গানে সেটা নেই। ভেঙে বললে, গল্প, উপন্যাস, ছোটগল্প- সব কিছুরই একটা গাঁথুনি থাকে। গানের বেলা অস্থায়ী, অন্তরা; বা পশ্চিমা নিয়মে, ইন্ট্রো, কোরাস, ব্রিজ থাকে। গানে এসব অংশের মধ্যে টোনাল পার্থক্য থাকে। না থাকলে সেটা শুনতে ভাল লাগে না। নৌকায় চড়ে যেমন দুলুনি না খেলে ঠিক জমে না অনেকটা তেমন। বালামের উৎপাদিত গানে এই টোনাল ভেরিয়েশন বা দুলুনি একেবারে অনুপস্থিত।
বিপরীতে, গাজীপুরের এক অপরিচিত কিশোর ইমন খান সারাদেশ মাতিয়ে ফেলেছে। মাত্র লাখ টাকার বাজেটের ক্যাসেট প্রকাশ করে গাজীপুরের অখ্যাত ক্যাসেট প্রকাশক এক সপ্তায় কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। পাটুয়াটুলির পাইকাররা চাহিদামতো সরবরাহ পাচ্ছে না- যোগানও দিতে পারছে না। তাদের মোট বিক্রির ৯০ ভাগ আসছে এই একটা এলবাম থেকে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এরকম ঘটনা আর ঘটেনি।
ল্যাপটপ মিউজিকের দিন কি তবে শেষ হয়ে গেল?
পুনশ্চ:
যারা এ পর্যন্ত পড়েছেন, কিন্তু মন্তব্য করতে চাচ্ছেন না তাদের আঙুলের মাথায় ঠাডা।
গত দুটো লেখায় সচলের আয়তন বুঝতে পারলাম না। তাই এখানে মন্তব্য মাস্ট।