ডিজাইন বাই অমুক পাওয়ার্ড বাই তমুক


লিখেছেন আলমগীর লেখা হয়েছে:০৬ অগা ২০০৮

আজ বিটিসিএল সম্পর্কে একটু খোঁজ করছিলাম গুগলে। উদ্দেশ্য তাদের ঘটনা কী, খুঁটি কোথায় একটু জানার ইচ্ছা। প্রথমে যে সাইটটা গুগল দেখাল সেটা হলো ইন্ডিপেন্ডেন্ট বাংলাদেশের একটা রিপোর্ট- বিটিসিএল যখন বিটিটিবি থেকে স্পিন অফ হয় তার উপর। পত্রিকাটির সাইটটা খুব চমৎকার। একটু টোকা দিতেই বুঝলাম জুমলা দিয়ে করা। এক সময় জুমলার পেছনে বহু সময় ব্যয় করেছি, কাজেই ধরতে কোন সমস্যা হয় না। ধাক্কা লাগল টেম্পলেট দেখে। টেম্পলেটটি জুমলাআর্ট নামক কম্পানির ডিজাইন করা। ধরে নিচ্ছি তারা বৈধভাবে কিনেই ব্যবহার করছেন। কিন্তু কৌশলে টেম্পলেটের নামটা পাল্টে দেয়া হয়েছে। ফুটারে টেম্পলেট বাই অমুক একটা লেখা থাকে সেটাও উধাও।

জুমলাআর্টের লাইসেন্সিং শর্ত অনুসারে একজন কেউ একটা টেম্পলেট কেবলমাত্র ব্যবহারের অধিকার পায়। নিজের প্রয়োজনে কিছুটা পরিবর্তনও গ্রহণযোগ্য। অনেকটা লিজের মতো। কিন্তু টেম্পলেটের নাম পরিবর্তন, ফুটারের লেখা সরিয়ে নেয়া অগ্রহণযোগ্য। এসব কিছুই আবার বৈধ হতে পারে যদি জুমলাআর্টকে অনেক টাকা দিয়ে পুরো টেম্পলেটটা এক্সক্লুসিভলি কিনে নেয়া যায়। সেটা কয়েক হাজার ডলারের মামলা। ইন্ডিপেন্ডেট সেটা করেছে কিনা সন্দেহ। কেন সন্দেহ?

জুমলা হলো জিপিএল এর আওতায় নির্মিত সিএমএস সফটওয়ার যেটা দিয়ে সহজেই যে কোন ধরনের ওয়েব সাইট বানানো যায়। জুমলার লাইসেন্সিং শর্ত হলো, জুমলা যে সাইট তৈরি করবে তাতে জেনারেটর নামে একটা অদৃশ্য মেটা ট্যাগ থাকবে, যেটা দিয়ে বোঝা যাবে সাইটটা জুমলাতে করা। কোন অবস্থাতেই এ ট্যাগটা মোছা যাবে না- মানে মুছলে তা বৈধ হবে না। ইন্ডিপেন্ডেন্ট সেই কাজটিই করেছে- মেটা ট্যাগটাকে লাপাত্তা করে দিয়েছে। এটি বাংলাদেশের জাতীয় ইংরেজি পত্রিকা।

উবুন্টু-বিডি হলো অনেকটা উবুন্টুর বাংলাদেশের সাইট। এর সাথে জড়িত রাসেল জন নামে এক বাংলাদেশী। সম্প্রতি সাইটটি নতুন করে সাজিয়েছেন তারা। এ নিয়ে ক'মাস আগে প্রজন্ম ফোরামে একটা ঘোষণাও দেয়। সাইট দেখতে খুবই সুন্দর। ঘোষণাতেও সে কথাটি জোর দিয়ে বলা হয়। ঘোষণার ভাষায় আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় টেম্পলেটের ডিজাইন তাদেরই করা। ছিদ্র অন্বেষণ করা আমার দোষ। আমি খুঁজে বের করি টেম্পলেটটা জুমলাডিটি.কম নামে এক সাইটের করা ফ্রি টেম্পলেট। এ টেম্পলেটেও ডিজাইন বাই অমুক বলে একটা কথা আছে, যেটা কেবল পয়সার বিনিময়েই সরানো যায়। আমি প্রজন্ম ফোরামে এটা মনে করিয়ে দিই সে সময়। কিন্তু এখনো ফুটারে ডিজাইন বাই কথাটা নেই।

জুমলার জন্য তিনটি কাজ করেছিলাম। ভাষা ফাইল বাংলা অনুবাদ, জুমলার পুরো প্যাকেজের বাংলা অনুবাদ আর একটা ভাল বাংলা ফন্ট। ভাষা ফাইল জিনু জিপিএল, ব্যবহারের কোন সীমাবদ্ধতা ছিল না। পুরো লোকালাইজড প্যাকেজের লাইসেন্সও তেমনি ছিল। কিন্তু বাড়তি একটা শর্ত ছিল। সাইটের ফুটারে জুমলা-বিডির একটা লিংক থাকতে হবে। আজ অবধি কয়েক হাজার লোক সেটা নামিয়েছেন, সাইটও হয়ত বানিয়েছেন, কিন্তু লিংকটা আর দেননি- অল্প কয়েকজন ছাড়া।

ফন্টের কাহিনীটা আরো দুঃখের। অভ্রকে একনামে চিনেন সবাই। ধরে নেন, ইন্টারেনেটে বাংলা লিখি তাদের বরকতে। কিন্তু যে জিনিষটা অনেকে ভুলে যান সেটা হলো অভ্রের নিজের কোন ফন্ট নেই। এরা একুশের তৈরী করা সব ফন্ট বিতরণ করে। (যদিও অনেকে মনে করেন ফন্টও সব অভ্রের।) সে হিসাবে ফন্টের যা কৃতিত্ব, প্রায় পুরোটাই একুশের- বিশেষ করে বললে অমি আজাদের। (অবশ্য এক সময় তাকে অভ্রই ফন্ট পাইরেট বলে খুব পঁচিয়েছে।) একুশের ফন্ট না থাকলে লেখা পরের কথা, বাংলা দেখতেই পেতাম না।

একুশে গ্রুপের যে ফন্টগুলো ছিলো তার কোনটাই স্ক্রিনে সুন্দর দেখাত না। অনেকের হয়ত বৈশাখী ফন্টের কথা মনে থাকবে। বৈশাখী ছিল অসম্ভব সুন্দর, কিন্তু ইউনিকোডের যোগ্য না। আমি প্রায় ৬মাস সময় ব্যয় করে একুশের লোহিত ফন্টটাকে স্ক্রিনে সুন্দর দেখানোর উপযোগী করি। (এ ব্যপারটাকে বলে হিন্টিং। ফন্ট ফাইলের প্রতিটি গ্লিফকে প্রতিটি সাইজের জন্য পিক্সেল ঠিক করে দিতে হয়। বাংলা একটা ফন্টে ৫০০ এর মতো গ্লিফ থাকে- তাই প্রচুর সময় লাগে।)

নতুন ফন্ট অপনালোহিত বিতরণের জন্য জুমলা-বিডি সাইটে রেখে দিই। শর্ত হলো, বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাবে, কিন্তু কোন সাইট থেকে বিতরণ করতে হলে, যথাস্থানে জুমলা-বিডির একটা লিংক দিতে হবে যাতে লোকজন জানে কোথা থেকে ফন্টটা আসছে, নতুন ভার্শন কোথায় পাওয়া যাবে। খুব অল্প সংখ্যক লোক আমার শর্ত রেখেছে। এর মধ্যে বিখ্যাত একজন আছেন যিনি AponaLohit কী-ওয়ার্ড ট্র্যাপ করে গুগলকে ফাঁকি দিয়েছেন, যাতে গুগলে কেউ সার্চ করলে প্রথমে তাদের সাইট আসে। তাকে অনেক বলে সেটা সরানো সম্ভব হয়েছে।

চুরি বিদ্যা মহাবিদ্যা যদি না পড় ধরা। আমরা চুরি করি, অহরহ ধরাও পড়ি, আবারও চুরি করি। যাদের জিনিষ চুরি করি তারা নিতান্ত একটা লিংক/ধন্যবাদ ছাড়া কিছুই আশা করেন না।

এত কিছুর মধ্যে একটা ছোট্ট বিষয় হলো সচলের প্রকৃতিপ্রেমিক এসব অনেক কিছুর স্বাক্ষী। অনেক সময় তিনিই আমাকে ধরে দিয়েছেন।

ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি লেখার জন্য। আজকে অনেক কিছু জানতে পারলাম। আমিও এ কাজটি আগে করতাম। আজ থেকে সব ট্যাগ এডিট করে দিচ্ছি্ আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।